বই পরিচিতি:
বই: আসলে উনি কে
লেখক: Sumon Bhuiyan
প্রচ্ছদ: শাহাদাত শিবলী
প্রকাশনা: প্রতিভা প্রকাশ
প্রথম প্রকাশ: ফেব্রুয়ারী ২০২৬
জনরা: মনস্তাত্ত্বিক রহস্য উপন্যাস
মলাট মূল্য: ৩০০৳
পৃষ্ঠা: ৯৬
ফ্ল্যাপ:
সব ভয় চোখে দেখা যায় না। কিছু ভয় জন্ম নেয় বিশ্বাস থেকে।
এই গল্পে কোনো ভূত নেই। কিন্তু আছে এমন বিশ্বাস — যা প্রশ্নকে শাস্তি দেয়, আর সত্যকে ধীরে ধীরে মেরে ফেলে।
এখানে যুক্তি দুর্বল। কারণ কিছু ঘটনা ব্যাখ্যার আগেই সিদ্ধান্ত নেয়।
এই বই পড়তে পড়তে আপনি টের পাবেন— গল্পটা শুধু পড়া হচ্ছে না, গল্পটা আপনাকেও দেখছে।
শেষ পর্যন্ত একটি প্রশ্ন চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকবে—
আসলে উনি কে......?
কাহিনি সংক্ষেপ:
ঢাকা শহরে পড়াশোনা শেষ করে আনিসের চাকরি হয় সরকারি প্রাইমারি স্কুলে। স্কুল শহর ছেড়ে রাউতি গ্রামে। শহর থেকে সকালে গাড়িতে উঠলে, দুপুরে রাউতি গ্রামে পৌঁছানো যায়।
আনিস শহর থেকে সকালের বাসে রাউতির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। কিন্তু রাস্তায় বাস খারাপ হওয়ায় তার গাড়ি থেকে নামতে সন্ধ্যা হলো। রাউতি গ্রামে পৌঁছাতে আরও তিন কিলোমিটার পথ যেতে হবে। রিকশা, নৌকা, হাটা এই তিনটা উপায় ছাড়া আর কোনো উপায় নাই।
তিন চারটে রিকশাওয়ালার সাথে কথা বলেও লাভ হলো না। শেষে একজন যেতে চাইল কিন্তু তার ভাড়া আনিসের সাদ্যের বাইরে। তাই আনিস শেষ পর্যন্ত হেটে যাওয়ারই সিদ্ধান্ত নিল। আনিস রাত সাড়ে সাতটা আট টার দিকে রাইতি গ্রামে একা একা হেটে যাচ্ছে। হঠাৎ পিছন থেকে শব্দ এলো,
" এই যে ভাইয়া শুনতাছেন.........?"
আনিস চমকে উঠল। মনের মধ্যে তার নানা প্রশ্ন ঘুরপাক করে। কে ডাকল তাকে? ডাকাত নাকি অন্যকিছু। আসলে কে ডেকেছিল আনিসকে? জানতে হলে পড়তে হবে লেখক সুমন ভূঁইয়ার " আসলে উনি কে" উপন্যাসটি।
পাঠপ্রতিক্রিয়া:
" এই যে ভাইয়া শুনতাছেন.....?" কথাটি দিয়েই উপন্যাসের শুরু। আচ্ছা আপনি সন্ধ্যার পরে যদি একা কোথাও বের হোন আর তখন আপনার পিছন থেকে এমন ডাক শুনতে পান তাহলে কেমন লাগবে?
নিশ্চয় ভয় কাজ করবে? তেমনই হওয়ার কথা।
বইয়ের শুরুটা যেমন ভয় আর রহস্যে ঘেরা। শেষ অব্দি রহস্যই থেকে গেছে। এই রহস্যের গন্ধই যেন গল্পের আরও সামনের দিকে টানে। এরপর কি হলো এরপর কি হলো? এইসব জানতে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত গল্পের শেষ হয়েও যেন শেষ হয়নি। এই বইয়ে অনেক রহস্য রয়েই গিয়েছে। লেখক এই বইয়ের দ্বিতীয় খন্ডে এই রহস্যের পর্দাভেদ করবেন। আসলে উনি কে? ছিল যে বলল " এই যে ভাইয়া শুনতাছেন...?"
বইয়ের গুণগতমান ও বাধাই:
বইয়ের গুণগতমান ও বাধাই খুবই ভালো হয়েছে।
ভুল বানান: কয়েকটা ছোট ছোট বানান ভুল আছে। তবে নোট করতে পারিনি।
পছন্দের কিছু লাইন:
মানুষ যখন কাউকে হঠাৎ হারায়, মনের ভেতরে সেই মানুষের স্মৃতি খুব তীব্র হয়ে ওঠে। তীব্র স্মৃতি মাঝে মাঝে বাস্তবের ওপর ছায়া ফেলে। ফলে মানুষ ছায়াকে ভুল করে অবয়ব মনে করে,শব্দকে মনে হয় কেউ ডাকছে।
রাতের অন্ধকারে মানুষের ইন্দ্রিয় একটু বেশি সতর্ক হয়ে যায়। যা চোখ দেখে ন, মস্তিষ্ক সেখানে নিজের মতো করে ছবি তৈরি করে। কখনো সেই ছবিকে আমরা মানুষ ভেবে ফেলি, কখনো শব্দকে মনে হয় কেউ আমাদের ডাকছে। অন্ধকারে মস্তিষ্কই সবচেয়ে বড় গল্পকার।
মানুষের স্মৃতি শুধু মাথায় নয়, দেহের ভেতরেও জমা হয়।
রাতে অন্ধকার রাস্তায় হাঁটলে চোখ যেমন সহজে বিভ্রমে পড়ে, মাথার ভেতরও তখন ছোট ছোট ভয়
শব্দ করতে শুরু করে।
রাতে মানুষের মস্তিষ্ক খুব অদ্ভুতভাবে কাজ করে।
মস্তিষ্ক যা বিশ্বাস করতে চায়, অদ্ভুতভাবে ঠিক সেটাকেই 'প্রমাণ' বানিয়ে ফেলে।
যেখানে যুক্তি থেমে যায় ভয় ঠিক সেখানেই তার ঘর বানায়।
রেটিং: ৪.৮/৫
লেখা: নিপানুর বিনতে নুরনবী
তারিখ: ০৭/০৬/২০২৬
Facebook পোস্টটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন
Note: ব্যবহারকারীর প্রোফাইল পাবলিক থাকলে, দেওয়া লিংক থেকে মূল রিভিউটি দেখা যাবে।
বই : আসলে উনি কে?
লেখক: Sumon Bhuiyan
জানারা : মনস্তাত্ত্বিক রহস্য উপন্যাস
প্রকাশনী : প্রতিভা প্রকাশন
প্রচ্ছদ : শাহাদাত শিবলী
মূল্য : ৩০০
পৃষ্ঠা : ৯৫
রিভিউ : নিপা
তারিখ : ২১/০৬/২০২৬
___________________________
' গত দুই রাত ধরে দবিরের আসা যাওয়ার হিসাবটা কেমন যেন ভেঙ্গে পড়েছে। মাঝখানে বড় একটা ফাঁক, সেই ফাঁক দিয়ে পুরো ঘটনাটা নিচে পড়ে যাচ্ছে। কোনভাবেই মিলছে না।'
তার চোখে ভাসছে -
দবির রাতের বেলা দরজায় দাঁড়িয়ে আছে, তার জামা ছেঁড়া.... গালে রক্ত, নিচু মুখ, একটাও কথা না বলে ঘরে ডুকে যাচ্ছে।
কিন্তু___
দবির তো হাসপাতালে অজ্ঞান! দুই দিন ধরে!
তাহলে কাল রাতে...
গত পরশু রাতে...
দরজায় কে দাঁড়িয়ে ছিলো?
আসলে উনি কে?
মনস্তাত্ত্বিক রহস্যময় এই উপন্যাসটিতে লেখক সুমন ভুঁইয়া এমন এক পরিবেশ তৈরি করেছে যেখানে ভয় শুধু চোখে দেখা যায় না ভয় ধীরে ধীরে মানুষের মনের ভেতর জন্ম নেয়। ভয়, বিভ্রম, বিশ্বাস আর বিজ্ঞানের যুক্তিতে উপন্যাসটিতে এমন কিছু ঘটনা উঠে এসেছে যেগুলোর ব্যাখ্যা খুঁজতে গিয়ে সবকিছু জটিল হয়ে উঠে।
কাহিনী সংক্ষেপেঃ
সময় নব্বইয়ের আগের কথা দেশের অনেক জায়গাতে বিদ্যুৎ পৌঁছায়নি। দাউদকান্দির ছেলে আনিস পড়াশোনার জন্য ঢাকা এসেছিলো। কষ্ট করে পড়াশোনা শেষ করে সরকারি প্রাইমারি স্কুলে চাকরি পেয়েছে তাড়াইল উপজেলার নিরিবিলি এক গ্রাম - রাউতি। যেখানে চারদিকে নীরবতা, অন্ধকার আর মানুষের মুখে মুখে ঘুরে বেড়ানো অদ্ভুত সব গুঞ্জন। যেখানে,
সবাই জানে–
ডাকাতির দায়ে একজন মানুষকে মেরে ফেলা হয়েছিল। আরও একজন ছিল। অল্প বয়সে মারা যায় সে। মরার আগে তাঁরা রেখে যায় কিছু ক্ষমতা না অভিশাপ, কেউ ঠিক জানে না। কিন্তু গ্রাম জানে তারা মরেনি। সেই গল্প আজও ঘোরে।রাতে, নীরবতায়,মানুষের বিশ্বাসে। তবে এই গল্পের মাঝখানেই এসে পড়ে শহর থেকে আসা তরুণ শিক্ষক আনিস।
সে প্রশ্ন করে। যুক্তি খোঁজে। বিজ্ঞানের আলোতে ভয়, স্মৃতি আর বিভ্রমের ব্যাখ্যা দাঁড় করাতে চায়।কিন্তু এখানে যুক্তি টেকে না।
কারণ কিছু ভয় ব্যাখ্যা মানে না।
আর কিছু বিশ্বাস নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে সত্যকেও গিলে ফেলে। একসময় আনিস বুঝতে পারে সে আর শুধু পর্যবেক্ষক নেই।গল্পটা তাকে দেখছে। ধীরে ধীরে নিজের ভেতরে ঢুকে পড়ছে।যে মুহূর্তে সে ভাবে
সবকিছুর উত্তর প্রায় পেয়ে গেছে,ঠিক সেই মুহূর্তেই একটি ঘটনা তার সমস্ত যুক্তিকে ভেঙে চুরমার করে দেয়। তাহলে কি আনিসও বিশ্বাস করতে শুরু করেছে, গ্রামের সেই কথাগুলো, যা মানুষ দিনে বলে না, কিন্তু রাতে বিশ্বাস করে? কি এমন ঘটেছিলো আনিসের সাথে যার পর থেকে আনিসও বিশ্বাস করতে শুরু করেছিলো বিজ্ঞানের যুক্তির বাহিরে এমন কিছু আছে যেখানে কোন যুক্তি টেকে না। জানতে হলে পড়তে হবে ' আসলে উনি কে? বইটি।
পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ
কিছু উপন্যাস আছে যেগুলো শুধু পড়া হয়না টেনে নিয়ে যায় অনুভূতির এক কাল্পনিক জগৎ এ। 'আসলে উনি কে? ঠিক সেরকম একটি মনস্তাত্ত্বিক রহস্যময় উপন্যাস, যেখানে ভয় কখনো সামনে আসে না নীরবে মনের ভেতর ঢুকে পড়ে। নব্বইয়ের আগের গ্রামীণ পরিবেশের প্রেক্ষাপটে লেখা উপন্যাসটি। গল্পের মূল চরিত্র শহরের তরুন শিক্ষক আনিস। যিনি চাকরিসূত্রে নতুন মানুষ নতুন গ্রামে এসে সাক্ষী হন ভয়ংকর কিছু ঘটনার । যেখানে লেখক তার কলমের ছোঁয়ায় চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন গ্রামের পরিবেশের নিখুঁত বর্ননা, রহস্য ধরে রাখার ক্ষমতা, যু্ক্তি এবং বিশ্বাসের দ্বন্দ্ব এবং মনস্তাত্ত্বিক ভয় তৈরির ধারনা। বইটি পড়ার সময় বইটির পরিবেশ আমাকে টেনে নিয়েছে গ্রামের নির্জনতা, রাতের নিস্তব্ধতা, মানুষের ভয় সবকিছু এমন জীবন্ত ভাবে ফুটে উঠেছে যে পড়তে গিয়ে মনে হচ্ছিলো আমিও যেন রাউতি গ্রামের পথে হাঁটছি। সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে লেখকের রহস্য ধরে রাখার ক্ষমতা যা ভয় এবং প্রশ্নকে রহস্যের জালে আটকে ফেলেছেন।
আনিসের চরিত্র বাস্তব মনে হয়েছে। তার যুক্তিবাদী মন, ভয়কে অস্বীকার করার ক্ষমতা, আবার ধীরে ধীরে নিজেই ভয়ে স্তব্ধ হয়ে যাওয়া। বিশেষ করে দারুণ লেগেছে সেই মুহূর্তগুলো যখন আনিস বুঝতে পারে সব কিছুর ব্যাখ্যা সবসময় বিজ্ঞানের যুক্তিতে চলে না। পাশাপাশি গল্পের চরিত্র মিজান, তোবারক স্যার, চম্পা, দবির, জিল্লু চরিত্রগুলোকেও চমৎকার ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। বইটির ভাষা সহজ সাবলীল এবং অঞ্চলিকতার ব্যবহার বেশ মানসই ছিলো যেহেতু নব্বইয়ের আগের কথা যার কারণে চরিত্র গুলো কল্পনা করতে সুবিধা হয়েছে।
পছন্দের লাইনঃ
~তবুও মানুষের মন - বিজ্ঞানের বইয়ের পাতার চেয়েও বড় রহস্য।
~মানুষের স্মৃতি শুধু মাথায় না, দেহের ভেতরও জমা হয়। কোন জায়গায় তীব্র ভয়, দুঃখ বা মৃত্যু ঘটে- সেই জায়গায় মানুষের মনে একটা ছাপ ফেলে। পরে সেখানে গেলে অনেকেই মনে করে কেউ আছে, আসলে সেটা জায়গাটার ভেতরে থাকা পুরনো স্মৃতির প্রতিধ্বনি।
~ এটা কি কোন অচেনা ভালোবাসা? এমন ভালোবাসা, যার কোন স্মৃতি নেই, তবু টান আছে। নাকি এটা ভয়- ভয় থেকে জন্ম নেওয়া এক ধরনের আশ্রয়, যেখানে পরিচিত কন্ঠটাই সবচেয়ে নিরাপদ মনে হয়?
মন্তব্যঃ
একটি বইয়ের যেমন ভালো দিক রয়েছে তেমন খারাপ দিকও রয়েছে। একটি বই সবার কাছে ভালো লাগবে এমন কোন কথা নেই। তবে এই উপন্যাসটি আমার কাছে দারুণ লেগেছে। যারা মনস্তাত্ত্বিক, ভয়, বিভ্রম রহস্যে ঘেরা বই পড়তে পছন্দ করেন তারা অবশ্যই পড়ে দেখবেন। নিঃসন্দেহে সেল্ফে রাখার মতো একটি বই।
যদিও ভালো রিভিউ লিখতে পারিনা তবে চেষ্টা করলাম ভুল ক্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।
Facebook পোস্টটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন
Note: ব্যবহারকারীর প্রোফাইল পাবলিক থাকলে, দেওয়া লিংক থেকে মূল রিভিউটি দেখা যাবে।
শেহ জা দী এর পাঠ প্রতিক্রিয়া
বই পরিচিতি
বই: আসলে উনি কে?
লেখক: সুমন ভূঁইয়া
প্রকাশনা: প্রতিভা প্রকাশ
প্রচ্ছদ: শাহাদাত শিবলী
প্রকাশকাল: বইমেলা ২০২৬
জনরা: মনস্তাত্ত্বিক রহস্য উপন্যাস
মলাট মূল্য: ৩০০৳
পৃষ্ঠা: ৯৬
ফ্ল্যাপ:
সব ভয় চোখে দেখা যায় না। কিছু ভয় জন্ম নেয় বিশ্বাস থেকে।
এই গল্পে কোনো ভূত নেই। কিন্তু আছে এমন বিশ্বাস– যা প্রশ্নকে শাস্তি দেয়, আর সত্যকে ধীরে ধীরে মেরে ফেলে।
এখানে যুক্তি দুর্বল। কারণ কিছু ঘটনা ব্যাখ্যার আগেই সিদ্ধান্ত নেয়।
এই বই পড়তে পড়তে আপনি টের পাবেন– গল্পটা শুধু পড়া হচ্ছে না, গল্পটা আপনাকেও দেখছে।
শেষ পর্যন্ত একটি প্রশ্ন চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকবে–
আসলে উনি কে...?
কাহিনী সংক্ষেপ:
সবাই জানে–
ডাকাতির দায়ে একজন মানুষকে মেরে ফেলা হয়েছিল। আরও একজন ছিল। অল্প বয়সে মারা যায় সে। মরার আগে তাঁরা রেখে যায় কিছু–
ক্ষমতা না অভিশাপ, কেউ ঠিক জানে না।
কিন্তু গ্রাম জানে–
তারা মরেনি।
সেই গল্প আজও ঘোরে।
রাতে।
নীরবতায়।
মানুষের বিশ্বাসে।
এই গল্পের মাঝখানেই এসে পড়ে
শহর থেকে আসা এক তরুণ শিক্ষক– আনিস।
সে প্রশ্ন করে। যুক্তি খোঁজে। বিজ্ঞানের আলোতে ভয়, স্মৃতি আর বিভ্রমের ব্যাখ্যা দাঁড় করাতে চায়।
কিন্তু এখানে যুক্তি টেকে না।
কারণ কিছু ভয় ব্যাখ্যা মানে না।
আর কিছু বিশ্বাস–
নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে সত্যকেও গিলে ফেলে।
একসময় আনিস বুঝতে পারে–
সে আর শুধু পর্যবেক্ষক নেই।
গল্পটা তাকে দেখছে। ধীরে ধীরে নিজের ভেতরে ঢুকে পড়ছে।
যে মুহূর্তে সে ভাবে–
সবকিছুর উত্তর প্রায় পেয়ে গেছে,
ঠিক সেই মুহূর্তেই একটি ঘটনা
তার সমস্ত যুক্তিকে ভেঙে চুরমার করে দেয়।
তাহলে কি আনিসও বিশ্বাস করতে শুরু করেছে–
গ্রামের সেই কথাগুলো, যা মানুষ দিনে বলে না,
কিন্তু রাতে বিশ্বাস করে?
অধ্যায় (সংক্ষেপ):
আসলে উনি কে? | গ্রামের নীরব রহস্য | যাত্রার শুরু, ভয়ও শুরু | কবরের হাসি | নদীর বুকে রক্ত | আগুনের আলোয় অচেনা ছায়া | আঙুলের দাগ | রক্তের বালিশ | পশ্চিম পাড়ার পথে | উত্তরহীন
পাঠপ্রতিক্রিয়া:
বাংলাদেশের গ্রামীণ প্রেক্ষাপটে লেখা গল্প। যেখানে রাউতি গ্রামের নতুন শিক্ষক আনিস। তার ভয়, যুক্তি, দ্বিধাদ্বন্দ্ব নিয়ে পুরোটা কাহিনী সাজানো হয়েছে। গ্রামের মানুষদের অন্ধবিশ্বাস, আষাঢ়ে গল্প, স্বভাবজাত আজগুবি ধারণা সবই ছিলো।
“এই যে ভাইয়া, শুনতাছেন?” এমনই এক চুম্বকাংশ দিয়ে গল্পের শুরু। নিশ্চয়ই কল্পনায় আসবে সুন্দরী কোনো রমণী পেছন থেকে এতো সুন্দর করে ডাকছে, আপনার ধারণা কী? আমিও এমনই ভেবেছিলাম। তিনবার একইভাবে ডাকার পর যখন সে কন্ঠে হাসির আভাস নিয়ে বললো – “আরে ভাইয়া, আমি কোনো চোর-ডাকাত না, একটু থামুইন...” আনিস সাহেব পেছনে তাকিয়ে অবাক হয়ে গেলেন, আর সাথে আমিও।
বইটি যতই পড়ছিলাম ততই যেন রহস্যে ডুবে যাচ্ছিলাম। সবচেয়ে বড় ধাক্কাটা তো খেলাম প্রথম অধ্যায়ের শেষ পৃষ্ঠায়।
আনিস, মিজান, তোবারক স্যার, দবির, চম্পা ও জিল্লুর গল্পের মূল চরিত্র। লেখক চরিত্রগুলোকে নিখুঁত করে গড়ে তুলেছেন। বিশেষ করে মিজান চরিত্রটি বেশী ভালো লেগেছে। অদ্ভুত সুন্দর।
প্রথম তিন অধ্যায় পড়েছিলাম দিনের আলোয়, তখন মনে হয়েছিলো বইটা রাতে পড়লেই মানানসই হতো। পরেরবার সত্যিই রাতে ঘুমানোর সময় বইটি নিলাম। রাত জেগে ভয় পেতে পেতে রহস্যের সাথে এগিয়ে চলেছি। প্রতিটা বর্ণনা চোখে ভাসছিলো৷ ভয়, খারাপ লাগা, বিজ্ঞানের যুক্তির সাথে নিজের ভয়টাকেও পাশ কাটানোর চেষ্টা, আবার যখন কোনো যুক্তি খাটলো না তখন হতাশ হওয়া সব মিলিয়ে ভৌতিক পরিবেশ আর রোমাঞ্চকর মূহুর্ত কাটিয়েছি।
বইটি পড়ার সময় একটুও বিরক্ত বোধ আসেনি বরং তারপর কি হতে চলেছে সেটা জানার জন্য চাতকের মতো হয়েছি। প্রতিটা অধ্যায়ের সাথে শিরোনাম অর্থবহ ছিলো। পুরোটা শেষ করার পর, একটা কথাই মন বলে উঠলো – শেষ হয়েও হইলো না শেষ। কারণ লেখক বইটা অসমাপ্ত রেখেছেন। পরের খন্ড “পশ্চিমপাড়ার পথে...” এর মাধ্যমে কাহিনী আরোও অনেক দূর এগুবে। আশা রাখি ধোঁয়াশা সবকিছুর উত্তর পরের খন্ডে প্রকট হবে।
ভাষা ও লিখনশৈলী:
বইয়ের ভাষা সহজ ও সুন্দর। আঞ্চলিকতা থাকলেও বইটির লেখনি চমৎকার। বই পড়ার আগ্রহ ধরে রাখার মতো রহস্যের জাল বুনা।
প্রচ্ছদ ও নামলিপি:
বইয়ের প্রচ্ছদটা ভয়ংকর। জলন্ত চোখ যেন গিলে খাবে। ভয়ার্ত পা-ও নীচে উঁকি দিচ্ছে।
নামলিপিও চমৎকার, তবে আরেকটু সুন্দর হতে পারতো।
আসলে উনি কে? সারা বইয়েই তাকে খুঁজবেন। নামটার স্বার্থকতা এখানেই।
গুণগত মান ও বাঁধাই:
বইয়ের গুণগত মান ও বাঁধাই দুইটাই মোটামুটি ভালো। পৃষ্ঠাগুলো বেশ ভালো লেগেছে। স্বচ্ছ, সুন্দর।
কিছু পছন্দের লাইন:
তবুও মানুষের মন– বিজ্ঞানের বইয়ের পাতার চেয়েও বড় রহস্য।
ভয়কে অস্বীকার করাই মানুষের সবচেয়ে পুরোনো অভ্যাস।
রাতে অন্ধকার রাস্তায় হাঁটলে চোখ যেমন সহজে বিভ্রমে পড়ে, মাথার ভেতরও তখন ছোট-ছোট ভয় শব্দ করতে শুরু করে।
মানুষ যখন কোনো অদ্ভুত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়– দুই রকম আচরণ করে।
একদল ভয় পেয়ে পালায়।
আরেকদল ভয় পেয়েও সামনে এগোয়– কারণ কৌতূহল অনেক সময় ভয়কে হার মানায়।
রাতে মানুষের মস্তিষ্ক খুব অদ্ভুতভাবে কাজ করে। ক্লান্ত শরীর, অন্ধকার রাস্তা, চাঁদের আলো– এই তিনটা একসাথে হলে মানুষ এমন জিনিসও দেখে, যা কখনো ছিলই না।
যেখানে যুক্তি থেমে যায় ভয় ঠিক সেখানেই ঘর বানায়।
তারিখ – ২১/০৪/২৬
~ শেহজাদী
প্রথমবার সাহস করলাম, সবাই মতামত জানাবেন।
Facebook পোস্টটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন
Note: ব্যবহারকারীর প্রোফাইল পাবলিক থাকলে, দেওয়া লিংক থেকে মূল রিভিউটি দেখা যাবে।
নাজমুল হাসান রাফসান এর পাঠ প্রতিক্রিয়া
শহরের ছেলে আনিস। শিক্ষকতার সুবাদে পোস্টিং হয় কিশোরগঞ্জের এক গ্রামে। প্রবল যুক্তিবাদী আর কৌতূহলী এক তরুণ আনিস। কিন্তু, গ্রামে প্রবেশের দিন থেকেই একটি প্রশ্ন তার পিছু নেয়, "আসলে উনি কে?"! গল্পটা সম্পর্কে ঘাঁটতে গিয়ে সে নিজেই আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে যায় গল্পটির সঙ্গে। অথবা গল্পটিই তাকে জড়িয়ে নেয় ভয়ংকরভাবে! জীবনের নিরাপত্তাই তখন মূখ্য হয়ে দাঁড়ায় আনিসের কাছে!
তারপর কি হয় আনিসের? সে কি এই প্রশ্নের সমাধান খুঁজে পায়? নাকি তার জীবনকে আরোও অন্ধকারে ঠেলে দেয় এই প্রশ্ন?
জানতে হলে পড়তে হবে সুমন ভূঁইয়ার মনস্তাত্ত্বিক রহস্য উপন্যাস "আসলে উনি কে"।
Facebook পোস্টটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন
Note: ব্যবহারকারীর প্রোফাইল পাবলিক থাকলে, দেওয়া লিংক থেকে মূল রিভিউটি দেখা যাবে।
আনাহিতা ফাতিমা এর পাঠ প্রতিক্রিয়া
গল্পটা শুরু হয় আনিস নামক একজন লোককে দিয়ে। যিনি ঢাকায় পড়াশোনা শেষ করার পর চাকরি পায় রাউতি প্রাইমারি স্কুলে। রাস্তায় গাড়ি খারাপ হয়ে যাওয়ার কারণে তার পৌঁছাতে পৌঁছাতে রাত হয়ে যায়। অন্ধকার রাত, অচেনা জায়গা সবমিলিয়ে আনিস ঘাবড়ে যায় কিভাবে পৌঁছাবে নির্দিষ্ট গন্তব্যে। হঠাৎ করেই আনিস একজনের ডাক শুনতে পায়, এবং অচেনা ব্যক্তিটি পরিচয় দেয় তিনি রাউতি গ্রামেরই একজন, তার নাম মিজান।মিজান আনিস সাহেবকে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেয়। এ পর্যন্ত সবকিছু ঠিকই ছিল কিন্তু বিপত্তি বাঁধে তখন, যখন আনিস জানতে পারে মিজান আর পৃথিবীতে নেই, অনেক আগেই মারা গেছে। এর পরে গ্রামে অনেকগুলো ঘটনা ঘটে, লোকমুখে অনেক কথা শোনে। কিন্তু আনিস প্রত্যেকটা ঘটনার ই ব্যাখ্যা দাড় করায়। কিন্তু আসলেই কি সব ঘটনার ব্যাখ্যা থাকে? আনিস কি জানতে পেরেছিল ওইদিন রাতে আসলে কে ছিল? সব রহস্যেরই কি সমাধান পাওয়া যায়? জানতে হলে পড়তে হবে বইটি।
আমি বইটা এক বসায় শেষ করেছি। আমার অনেক ভালো লেগেছে, দ্বিতীয় খণ্ডের জন্য অধীর আগ্রহে বসে আছি।
Facebook পোস্টটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন
Note: ব্যবহারকারীর প্রোফাইল পাবলিক থাকলে, দেওয়া লিংক থেকে মূল রিভিউটি দেখা যাবে।
পান্না আক্তার এর পাঠ প্রতিক্রিয়া
লেখক: সুমন ভূঁইয়া
প্রচ্ছদ :শাহাদাত শিবলী
মুদ্রিত মূল্য :৩০০ টাকা
-----------------
"আসলে উনি কে"
যে গল্পে নেই কোনো ভূত তবে রয়েছে এমন এক বিশ্বাস যা সত্যকে লুকিয়ে রেখেছে রহস্যের আড়ালে। যেখানে টিকে না কোনো যুক্তি মেলে না সত্যি।
----------------
কাহিনি সংক্ষেপ :আসলে উনি কে বইটির প্রথমেই আনিস নামের একটি তরুণের নাম উল্লেখ করা হয়।যে কিনা শহরে পড়াশোনা করে এবং রাউতি নামক একটি গ্রামে শিক্ষকতা করতে আসেন।কিন্তু পথিমধ্যে তার গাড়ি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তার গ্রামে পৌঁছাতে রাত হয়ে যায়, কোনোরকম যানবাহন না পাওয়ায় সে পায়ে হেঁটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।তবে সে কিছুই চিনেনা ঠিক তখনই পিছনে তাকে একজন যুবক ডাকলো যার নাম মিজান। গ্রামের থাকার পাঁচদিন পর আনিস জানতে পারলো মিজান নামের মানুষটি মৃত। মৃত মানুষ কি করে কাউকে পথ দেখাতে সাহায্য করতে পারে ঠিক তখনই আনিস সত্য খুঁজার চেষ্টা করে। গ্রামের মানুষের বিশ্বাস আনিসের যৌক্তিক মনে না হওয়ায় তিনি বিভিন্ন যুক্তি দাঁড় করানোর চেষ্টা করে। এভাবেই কিছুদিন পার হতে থাকে তিনি মনে করেন সবকিছুর সমাধান হয়তো পেয়ে গেছেন ঠিক তখনই কিছু ঘটনা তার সমস্ত যুক্তিকে ভুল প্রমাণ করে দেয়।
---------------
পাঠ প্রতিক্রিয়া :বইটির প্রতিটি অধ্যায়ে আমরা নতুন কোনো না কোনো রহস্য উন্মোচন হতে দেখি যখনই মনে হয় সবকিছুর উওর পেয়ে গেছি ঠিক তখনই নতুন রহস্যের সন্ধান। সবমিলিয়ে বইটা বেশ রহস্যময়ী।সবশেষে লেখক পাঠকের জন্য প্রশ্ন রেখে গিয়েছেন আনিস নামক তরুণের সঙ্গে জমিদার বংশের কি সম্পর্ক?যা তিনি তার দ্বিতীয় পর্বে উন্মোচন করবেন। প্রশ্ন থেকেই যায়
"আসলে উনি কে"
Facebook পোস্টটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন
Note: ব্যবহারকারীর প্রোফাইল পাবলিক থাকলে, দেওয়া লিংক থেকে মূল রিভিউটি দেখা যাবে।
রকমারিতে পাঠকদের দেওয়া কিছু নির্বাচিত মতামত
বইটই ডটকমের পাঠকদের নির্বাচিত মতামত ও পাঠ প্রতিক্রিয়া
N/A
ই-মেইল ও ব্যক্তিগত বার্তায় পাওয়া পাঠকদের নির্বাচিত মতামত ও প্রতিক্রিয়া