বয়স নির্দেশনা : উপন্যাসে কিছু সংবেদনশীল ও মানসিকভাবে তীব্র বিষয় থাকায় বইটি ১৬ বছরের নিচের পাঠকদের জন্য উপযুক্ত নয়।
দুঃখ আর সুখ একে অপরের পরিপূরক হয়েই একটা জীবনকে এগিয়ে নিয়ে যায়। একটিকে বাদ দিয়ে অন্যটিকে পরম সঙ্গী করে কখনো জীবনযাপন করা যায় না। সম্পর্কের যে বেড়িতে আমরা জড়িয়ে পড়ি, তাতে সুখ-দুঃখকে সঙ্গী করে নিয়ে একসাথে বেঁচে থাকাকে উপভোগ করার নামই হয়ে ওঠে ❝সংসার জীবন।❞
বই: ‘১০ সেকেন্ড’ (একজন বাবার গল্প)
লেখক: সুমন ভূঁইয়া
জনরা: সমকালীন উপন্যাস
প্রকাশনী: প্রতিভা প্রকাশ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২৭
একজন সাধারণ রংমিস্ত্রী শামসু, যার ছোট্ট জীবনের একমাত্র বেঁচে থাকার আশা তার মা, তার বউ আর তার একমাত্র কন্যা সন্তান মুনিয়া। গল্পের শুরু হয় গুলশান-২ এর কনস্ট্রাকশন বিল্ডিংয়ের ১৩ তলা ভবনের বাইরে ঝু'লে রং করার কাজ দিয়ে। ফোনকলে খবর পায় মেয়ে ২য় শ্রেণির পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ১ম স্থান অর্জন করেছে। বাপজান অর্থাৎ শামসুর কাছে মেয়ের আবদার সে গরুর মাংস দিয়ে ভাত খাবে। শামসুর এই ছোট্ট জীবনের আরেকটি বড় আশা হলো একমাত্র মেয়েকে পড়াশোনা করিয়ে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করা, অনেক বড় করা।
➥একটি দুর্ঘ'টনার মুহূর্তে মাত্র ১০ সেকেন্ডের ভেতর শামসুর জীবনের স্মৃতি, স্বপ্ন ও পরিবারের প্রতি ভালোবাসা একের পর এক উন্মোচিত হতে থাকে। ১৩তলা ভবনের একেকটি তলা হয়ে ওঠে শামসুর জীবনের ১০ সেকেন্ডের অতীতের গল্প। শামসুর মস্তিষ্কে আর চোখের সামনে ফুটে ওঠে এক ছোট্ট ছেলে থেকে ধীরে ধীরে দায়িত্বশীল হয়ে ওঠা এক স্বামী আর যত্নবান হয়ে ওঠা এক বাবার জীবন। মাত্র ১০ সেকেন্ডের ভেতর জীবন, স্বপ্ন, সংগ্রাম আর পরিবারের প্রতি একজন বাবার ভালোবাসা অসাধারণভাবে ফুটে উঠেছে এই উপন্যাসে।
➥ধীরে ধীরে শামসুর মধ্যে তার সংসারের জন্য বাঁচতে ইচ্ছে জাগে। বাঁচার আশার পাশাপাশি কী হতে যাচ্ছে -এই অজানা শঙ্কায় বারবার কেঁপে উঠতে থাকে শামসু। শেষ অব্দি শামসু কি পেরেছিলো তার বাঁচার আশার হাত ধরতে? নাকি সে এতোগুলো দুঃখের দিন পারি দিয়ে শেষে এসে হেরে গিয়েছিলো জীবনের কাছে?
----------------------------------
পাঠ প্রতিক্রিয়া:
এটি ছিল লেখকের লেখা আমার পড়া তৃতীয় বই। বইটি পড়ে একটু আবেগপ্রবণ হয়েছিলাম বটে কারণ “বাবা” -একটি আবেগের নাম। দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় আমরা যতই কঠিন হই না কেন, এই সম্পর্কগুলো আমাদের হৃদয়ের সবচাইতে নরম জায়গা দখল করে থাকে। একটি সংসার, একটা পরিবারকে দাঁড় করানোর পেছনে একজন বাবার সংগ্রামের প্রতিচ্ছবিই হলো ‘১০ সেকেন্ড’ বইটি। লেখক বইটিতে তুলে ধরতে চেয়েছেন একজন বাবার জীবনে বেঁচে থাকার আশা যখন প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসে, তখন তিনি কীভাবে বাঁচার আশা খুঁজেন। তিনি তুলে ধরেছেন, কীভাবে একজন বাবা তার জীবনের প্রিয় মানুষগুলোর মুখে তার বেঁচে থাকার আশা খুঁজতে থাকেন।
পরিশেষে, লেখকের গল্পটি আমার মোটামুটি ভালো লেগেছে। তবে চলিত আর আঞ্চলিক ভাষার সংমিশ্রণ, একই লাইনের বেশ কয়েকবার পুনরাবৃত্তি, সামান্য কিছু বানানের ভুল যদি এড়িয়ে যাওয়া যায়, তাহলে বইটি পড়ে ভালো লাগবে। অবশ্যই বইটি ছোট বাচ্চাদের পড়ার জন্য নয়, কেননা বইটি শুধু আবেগঘন-ই নয়, পাশাপাশি ২/১ জায়গায় একটু প্রাপ্তবয়স্কদের উপযোগী সংলাপ-ও লেখা হয়েছে। আর বইটির প্রোডাকশনের কথা বলতে গেলে, এককথায় অসাধারণ ছিলো। বাইন্ডিং, প্রচ্ছদকরণ, নামকরণ সবই আমার কাছে ভালো লেগেছে।
বইটির সমাপ্তি আমাকে লেখক হুমায়ূন আহমেদের বইয়ের সমাপ্তির মতো স্বাদ দিয়েছে, যার জন্য আমি একটু অসন্তুষ্ট। এরপর শামসুর কী হলো? -এটা জানার এক তীব্র আকাঙ্ক্ষা নিয়েই বইটি হুট করেই শেষ হয়ে গেলো। ❝অপেক্ষা❞ -তে আসলে আমাদের সামনের সময়ে কী ঘনিয়ে আসে, তা জানতে চাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা দিয়ে লেখক গল্পটি শেষ করে ফেলেছেন।
Facebook পোস্টটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন
Note: ব্যবহারকারীর প্রোফাইল পাবলিক থাকলে, দেওয়া লিংক থেকে মূল রিভিউটি দেখা যাবে।
লেখক : সুমন ভূঁইয়া
ধারাবাহিক বইগুলো থেকে বইটাকে আলাদাভাবে একটু আলাদা নজরে রাখতে চাই। এটা মূলত সমকালীন উপন্যাস।
বইয়ের নাম আর কভার পেইজে যেই ছবিটা দেখছেন তা থেকে আন্দাজ করতে পারেন এর ভিতরে থাকা গল্পটা কাকে নিয়ে বা কেমন হতে পারে। সত্যি বলতে আমি তেমন ইমোশনাল হই না কিন্তু অনেকদিন পর একটা উপন্যাস পড়ে আসলেই ইমোশনগুলোর মাত্রা বেড়ে গিয়েছিল। কেমন ইমোশন? আমি লিখে বলতে চাই না। আমি এতোদিন বইটা নিয়ে অনেক রিভিউ পেয়েও এড়িয়ে গিয়েছি কারণ স্পয়লার আমার দুই চোখের শত্রু। এখন রিভিউগুলো পড়ে দেখলাম অনেকেই তাদের বাবাকে নিয়ে কোনো না কোনো ঘটনা শেয়ার করেছে। সত্যি বলতে বইটায় তথাকথিত থ্রিলার, রহস্য, ভৌতিক কিছুই আপনি পাবেন না, পাবেন একজন বাবার গল্প। অতি সাধারণত একজন বাবার ধাপে ধাপে উন্নতি, অবনতি,লড়াই, জীবনযুদ্ধে বেঁচে থাকা, মানুষকে হারানোর গল্প।
ধাপে ধাপে গল্পগুলোকে সাজানো হয়েছে। গল্প বললেও ভুল হবে বাস্তব ঘটনা আমাদের সামনে প্রতিনিয়ত একজন লড়াই করা মানুষটার ইনভিজিবল ব্যাপারগুলো আবেগপ্রবণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
Facebook পোস্টটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন
Note: ব্যবহারকারীর প্রোফাইল পাবলিক থাকলে, দেওয়া লিংক থেকে মূল রিভিউটি দেখা যাবে।
রকমারিতে পাঠকদের দেওয়া কিছু নির্বাচিত মতামত
বইটই ডটকমের পাঠকদের নির্বাচিত মতামত ও পাঠ প্রতিক্রিয়া
N/A
ই-মেইল ও ব্যক্তিগত বার্তায় পাওয়া পাঠকদের নির্বাচিত মতামত ও প্রতিক্রিয়া